জেলার খবর

দিনেদুপুরে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে মিরিঞ্জা রয়েল হিল রিসোর্টে হামলা, আহত ৯

প্রকাশিত :
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
১৬ বার সংবাদটি দেখেছে

লামার মিরিঞ্জা ভ্যালীতে ‘রয়েল হিল’ নামে একটি রিসোর্টে দিনেদুপুরে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে দখলের চেষ্টায়, হামলার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লামা ও চকরিয়া থেকে ভাড়া করে আনা ৪০ জনের একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গ্রুপ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে এই হামলা চালায় বলে জানিয়েছেন রয়েল হিল রিসোর্টের মালিক সঞ্চিতা চাকমা।

হামলায় রিসোর্টের ২ জন মালিক ও ৭ জন স্টাফ সহ ৯ জন গুরুতর আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, সঞ্চিতা চাকমা, মোঃ রাসেল চৌধুরী, পুবন ত্রিপুরা, হেমরঞ্জন ত্রিপুরা, সালমা বেগম, রিন্টু চাকমা, নুর হোসেন, চাঁদনি জান্নাত ও মোঃ আলি চৌধুরী। বিকেল সাড়ে ৪টায় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। সন্ধ্যায় পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। আহত ৯ জনের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের হাসপাতালের আন্তঃবিভাগে ভর্তি দেয়া হয়েছে। বাকী ৫ জনকে জরুরি বিভাগ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

রিসোর্টের অপর মালিক মোঃ রাসেল চৌধুরী জানান, দুপুর ১টায় কৃষকলীগ নেতা সুলতান মাহমুদ সহ সোলতান, মোঃ জাফর, আইয়ুব এর নেতৃত্বে ৩৫/৪০ জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী রিসোর্টে হামলা চালায়। তারা সরাসরি আমাকে প্রচন্ড মারধর করে। আমার সারা শরীর জখম হয়ে গেছে। হামলাকারীরা লোহার রড, লাঠি দিয়ে রিসোর্টে ভাংচুর চালিয়ে প্রায় ৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করেছে। সন্ত্রাসীরা ১টি আইফোন সহ মোট ৬টি মোবাইল, রিসোর্টের ক্যাশ থেকে নগদ ৩ লাখ টাকা, পর্যটকদের ১টি মোবাইল, ৩টি পাওয়ার ব্যাংক ও নগদ ৯৫০০ টাকা নিয়ে যায়। ৯৯৯ তিন বার কল দেয়ার পরে পুলিশ আসে। তারপর লামা থানা পুলিশের ওসি কাইছার হামিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা আমার ৭ মাসের অন্তস্বত্বা স্ত্রী চাঁদনি জান্নাতকে মারধর করেছে। সেও হাসপাতালে ভর্তি।

সঞ্চিতা চাকমা কান্নারত অবস্থায় বলেন, আমার প্রতিপক্ষ ফারুক ও সুলতান আদালতে মামলা করেছে। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেয় আমরা মানবো। কিন্তু তারা নিজেরা মামলা করে আবার হামলা করেছে। কৃষকলীগ নেতা সুলতান মাহমুদ, শ্রমিকদল নেতা মোঃ আইয়ুব ও মোঃ জাফর মিলে আমাকে মারধর ও পেটে লাথি মারে। তারা আমাকে মেরে ফেলার জন্য হামলা করে। পুলিশ গিয়ে আমাদের উদ্ধার করেছে। তারা আমার সবগুলো স্টাফকে মারধর করেছে। এমনকি আগত পর্যটকদের গায়ে হাত তোলে। সুলতান মাহমুদ আমার গলায় হাত দিয়ে ৩ ভরি ওজনের সোনার চেইন নিয়ে যায়।

এবিষয়ে জানতে প্রতিপক্ষের সুলতান মাহমুদ এর মুঠোফোনে কল দিলে নাম্বার বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কাইছার হামিদ বলেন, রিসোর্ট থেকে হামলাকারীদের বের করে দেয়া হয়েছে। আহতদের লামা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।



বাপ্পি/সা.এ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *