ক্যাম্পাস

মেস থেকে জবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত :
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
৮ বার সংবাদটি দেখেছে

রাজধানীর চানখারপুলের একটি ছাত্র মেস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অনিক চন্দ্র পাল নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে বংশাল থানাধীন বি কে গাঙ্গুলী লেনের একটি মেসের কক্ষ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

অনিক চন্দ্র পাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি সিলেটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বর্তমানে তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

মেসে থাকা জবি শিক্ষার্থী জয় ভূঁইয়া জানান, গত সোমবার থেকে অনিকের কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার এক সহপাঠী ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে মেসে এসে অনিকের কক্ষ দেখতে বলেন।

তিনি জানান, কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় সন্দেহ হয়। দীর্ঘ সময় দরজায় কড়া নাড়ার পরও কোনো সাড়া না পেয়ে জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে তাকালে অনিককে ফ্যানের সঙ্গে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়। পরে দরজা খুলে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সহপাঠী ও মেস সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার দুই দিন আগে অনিকের প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদ হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি অনেকটা চুপচাপ থাকতেন। তার মোবাইল ফোন বন্ধ ও ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে বলেও তারা জানান।

ঘটনার খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান জবির ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর সুবাস পাল। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা খবর দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছাই। তবে তখন আমাদের শিক্ষার্থী আর বেঁচে ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। তার বাবার সঙ্গেও কথা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা আসার পর মেডিকেল ও থানার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।’

এদিকে, বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি এখনো আমরা জানি না। খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জেনে বলতে পারব।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে অনিকের মৃত্যুর পেছনে প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদের বিষয়টি উল্লেখ করা হলেও, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।



রোহান/সা.এ.

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *