অন্যান্যঅপরাধ

পল্লী বিদ্যুতের ভয়ংকর কারসাজি! বিদ্যুৎ না নিয়েও গ্রাহকের মিটারে বাড়ছে শত শত ইউনিট

প্রকাশিত :
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
৩১ বার সংবাদটি দেখেছে

ডেস্ক রিপোর্ট

ঘরে বিদ্যুৎ ব্যবহার নেই। কোনো নতুন যন্ত্রও চালু হয়নি। অথচ মাস শেষে মিটার খুলে দেখা গেল—শত শত ইউনিট! কোথাও আবার হিসাব পৌঁছেছে হাজার ইউনিটে। গ্রামীণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের এমন অভিযোগ ঘিরে এবার সামনে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য—বিদ্যুৎ ব্যবহার ছাড়াই মিটারে ইউনিট বাড়তে পারে!

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক কর্মীর দাবি, ডিজিটাল মিটারে কথিত ‘অটো পালস’ সমস্যার কারণে এমন অস্বাভাবিক রিডিং দেখা দিতে পারে। তার ভাষ্য, মিটার হাতে নিয়েই এমন ঘটনা তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন।

একটি মিটারের উদাহরণ তুলে ওই কর্মী জানান, একজন গ্রাহকের মাসিক ব্যবহার যেখানে প্রায় ৩০ ইউনিটের মধ্যে ছিল, পরের মাসে একই মিটারে রিডিং পাওয়া যায় প্রায় ৩০০ ইউনিট। গ্রাহকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আগের মতোই বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন—নতুন কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্রও ব্যবহার শুরু করেননি।

কর্মীর দাবি, কথিত ‘অটো পালস’ সক্রিয় হলে ২০০, ৩০০ এমনকি ১ হাজার ইউনিট পর্যন্ত অস্বাভাবিকভাবে যোগ হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। সবচেয়ে বিস্ময়কর দাবি হলো—গ্রাহক বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলেও মিটারে পালস চলতে দেখা গেছে।

ঘটনার এখানেই শেষ নয়। ওই পল্লী বিদ্যুৎ কর্মী মিটারের মান ও সরবরাহ প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন।

তার অভিযোগ, নিম্নমানের মিটার কেনা ও সরবরাহের সঙ্গে অনিয়মের যোগসূত্র থাকতে পারে। তিনি দাবি করেন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কিছু কর্মকর্তা কম দামে নিম্নমানের মিটার সংগ্রহ করে বেশি দামে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাছে সরবরাহ করছেন।

তবে এটি ওই কর্মীর অভিযোগ; এর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

 

মিটারের রিডিং যদি সত্যিই ব্যবহার ছাড়াই বাড়তে থাকে, তাহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই বাড়তি ইউনিটের দায় শেষ পর্যন্ত কার?

একজন গ্রাহক ৩০ ইউনিট ব্যবহার করে যদি মিটারে ৩০০ ইউনিট দেখতে পান, তাহলে অতিরিক্ত ২৭০ ইউনিটের হিসাব কীভাবে তৈরি হলো? আর এমন ঘটনা যদি একাধিক গ্রাহকের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে, তাহলে সেই বাড়তি বিলের অর্থ কোথায় যাচ্ছে?

এ প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রয়োজন মিটারের কারিগরি পরীক্ষা, রিডিংয়ের নিরপেক্ষ যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত।

কারণ, মিটার যদি বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব রাখার বদলে নিজেই ইউনিট বাড়াতে থাকে—তাহলে গ্রাহকের বিল কতটা নির্ভরযোগ্য?

‘অটো পালস’ আসলে কী, কী কারণে মিটারে এমন রিডিং তৈরি হয় এবং অভিযোগের পেছনে প্রযুক্তিগত ত্রুটি নাকি অন্য কোনো অনিয়ম রয়েছে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখন পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছেই প্রত্যাশিত।

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *